বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-০৯-২০২৬ ০২:৪৫:১২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৯-২০২৬ ০২:৪৫:১২ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ পুরো শিল্প খাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে অবিলম্বে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউজে স্থানীয় ও জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া সফরে এসে তিনি সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
শিল্প খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত হচ্ছে গার্মেন্টস। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে জানিয়েছেন, চাহিদামতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার কারণে তাদের উৎপাদন শতকরা ৫০ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমলে তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হবে এবং আন্তর্জাতিক বায়ারদের অর্ডার ক্যানসেল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চলে যাবে।
আন্তর্জাতিক সংকট সত্ত্বেও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইনের ক্রাইসিস ৬ মাস পার হলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশে-বিদেশে অভিজ্ঞ আমাদের একটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম রয়েছে, যা আমরা বিনামূল্যে সরকারকে উপহার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁতারা করছে।
সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের প্রস্তাব ও সাধারণ মানুষের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদের ভেতরে কাজ না হওয়ায় আমরা গণতন্ত্রের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের সার সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো ৬ দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করছি। প্রথম ধাপের সফলতা শেষে আমরা এখন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে দ্বিতীয় ধাপের লংমার্চ কর্মসূচি পরিচালনা করছি।
বিগত সরকারের আমলের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গে টেনে তিনি জানান, সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরাচারের কবলে থেকে দেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু নেতৃত্ব হারিয়েছি, গুম হওয়া মানুষের পরিবারের কান্না আজও থামেনি। চব্বিশের বিপ্লব সফল হওয়ার পর শাসনতন্ত্রের বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সংসদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ওয়াদা বরখেলাপ করা হয়েছে, যা সত্তরের আমলের মতো জনগণের রায়কে অবমাননা করার শামিল। ডিজিটালম্যাপ দেখুন
উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বগুড়া জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য ও অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় প্রধান জানান, বগুড়া উত্তরবঙ্গের নাভি এবং সাতটি সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দু। একসময় এটি মিনি শিল্পনগরী ও এডুকেশন হাব থাকলেও স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৪-৫৫ বছরে এর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিন দফায় দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ বগুড়াকে অবহেলিত রেখেছে, এমনকি সাধারণ সড়ক মেরামতের ক্ষেত্রেও চরম বাস্তবতা দেখা গেছে। প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অংশ থেকে আমি বগুড়ার ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের জন্য সংসদে জোরালো আওয়াজ তুলব।
কর্মসূচির শুরুতেই জামায়াতের আমির সকাল ৬টায় ধুনট উপজেলায় ১৯৬৯ সালে শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে তিনি দুপুর ১২টায় টিএমএসএস মমইন কনভেনশন সেন্টার ও স্থানীয় টিটু মিলনায়তনে বগুড়া মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জামায়াতের বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স